কিভাবে আপনার প্রিয় টি-শার্টটির যত্ন নিবেন

“Some things in life are certain: death, taxes and the inevitable demise of your favourite t-shirt.”

সবসময় যে আমরা খুব ভাল কোয়ালিটির টি-শার্ট কিনতে পারি তা না। অনেক দেখে কেনার পরেও দেখা যায় কিছু দিন পর কিছু টি-শার্ট একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। স্বাভাবিক। কাপড় বিশেষজ্ঞ তো ভাই আমরা কেউই না। এমনকি যারা এই লাইনের মানুষ তারাও অনেক সময় গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারবেননা। কারণ টা খুব সহজ। টি-শার্টের ফেব্রিককে সুন্দর ফিনিশিং দেবার অনেকগুলো পদ্ধতি আছে। তাদের ভেতরে সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা হয় ডাইং এর সময়। ডাইং এর সময় ফেব্রিককে সিলিকন এবং এনজাইম ওয়াশ করে এমন ফিনিশিং দেয়া সম্ভব যে খুব সস্তা কটন দিয়ে বানানো কাপড়ও অনেক মসৃণ, নরম ও সুন্দর মনে হয়। ভাল কটন, ডাইং, নিটিং এবং সুইং না হলে অল্প কিছুদিন পর থেকেই দেখা যায় টি-শার্টের অনেক ধরনের সমস্যা বের হওয়া শুরু করে যেমন ছোট হয়ে যাওয়া, বড় হয়ে যাওয়া, রঙ নষ্ট হয়ে যাওয়া, প্রিন্ট উঠে যাওয়া বা প্রিন্ট ভেঙ্গে যাওয়া, কাপড় ছিঁড়ে যাওয়া, এমনকি সূতাও বের হয়ে যাওয়া। একটি টি-শার্ট সারাজীবন টিকবে না, ভাল খারাপ ভেদাভেদে কম আর বেশি এটা যেমন সত্য তেমনি আপনি চেষ্টা করলে আপনার প্রিয় টি-শার্টের লাইফটাইম বাড়াতে পারবেন অনেকখানি।

 

১। কোন টি-শার্ট যদি আপনি খুব নিয়মিত না পরেন তবে তা সুন্দর করে ভাঁজ করে ড্রয়ারে রেখে দিন।

 

২। কাপড়ের রঙ অনুসারে অবশ্যই আলাদা করে ভেজান এবং আলাদা রঙের ভেজা কাপড় একসাথে রাখবেন না।

 

৩। টি-শার্ট কেনার পরেই তার কেয়ার লেবেল ভাল করে পড়ুন, এবং কিভাবে ধুতে হবে তা মেনে চলুন।

 

৪। কাপড় রোদে শুকানোর সময় অবশ্যই ভেতর থেকে উলটে দিবেন (inside out) কারণ তীব্র সূর্যের আলোতে কাপড়ের রঙ জ্বলে যায়, কিম্বা ফ্যাকাসে হয়ে যায়।

 

৫। এমন ডিটারজেন্ট ব্যাবহার করবেন না যেখানে ব্লিচ আছে, কারণ ব্লিচ কাপড়ের রঙ নষ্ট করে দেয়।

 

৬। রঙ্গিন Combed কটনের টি-শার্টের জন্য হাল্কা গরম পানির সাথে তুলনামূলক কোমল প্রকিতির ডিটারজেন্ট ব্যাবহার করুন।

 

৭। আপনি যদি কাপড় ধোবার জন্য ওয়াশিং মেশিনে ব্যাবহার করেন তবে অবশ্যই টি-শার্টটি ভেতর থেকে উলটে (inside out) নিবেন। এটি ওয়াশিং এর সময় আপনার টি-শার্টের রঙ এবং প্রিন্টকে অনেকখানি রক্ষা করবে।

 

৮। খুব দরকার না পড়লে টি-শার্ট ইস্ত্রি করতে যাবেন না। যদি একান্তই প্রয়োজন হয় তাহলে অবশ্যই টি-শার্টটি ভেতর থেকে উল্টে (inside out) নিবেন। এরসাথে খেয়াল রাখুন ইস্ত্রির তাপমাত্রার সাথে। আধুনিক সব ইস্ত্রিতেই কটনের জন্য আলাদা তাপমাত্রা সেট করা যায়। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে তুলনামূলক কম তাপমাত্রা সেট করে ইস্ত্রি করুন।

 

 

আপনি যদি উপরের টিপস গুলো অনুসরণ করেন তাহলে আপনার টি-শার্টের আয়ু কিছুটা হলেও বাড়বে। যদি দেখেন আপনার পরিচিত কেউ রঙ উঠা কোন টি-শার্ট পরে আছে তাহলে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে এই আর্টিকেলের লিঙ্ক ধরিয়ে দিন !