যে তিন কারণে আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের / টিমের জন্য টি-শার্ট বানাবেন

আপনি যদি চিন্তা করেন কিভাবে আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের ব্রান্ড ভ্যালু তৈরি করবেন বা বাড়াবেন তখন প্রথম যে আইডিয়া আপনার মাথায় আসবে তা টি-শার্ট না হবার সম্ভাবনাই বেশি। তবে ইদানীং কিছু রিসার্চে দেখা গেছে মার্কেটিং মানে শুধু ডিজিটাল মিডিয়াতে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢালা নয়, খুব সাধারণ কিছু আইডিয়া যেমন টি-শার্ট আপনার কোম্পানির ব্রান্ড ভ্যালু তৈরি করতে অনেক ভূমিকা রাখে। আমরা, Fabrilife টিম, চেষ্টা করেছি এর পেছনের কিছু কারণ খুঁজে বের করতে এবং বের করতে কেন আপনার প্রতিষ্ঠানের টি-শার্ট শুধুই একটি মজার উপলক্ষ নয়, বরং খরচের তুলনায় অনেক বেশি লাভজনক এবং ব্রান্ড ইমেজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্যান্টাস্টিক মার্কেটিং

যদি আপনি বড় কোন ব্রান্ডের জুতা, গাড়ি এমনকি ব্যাগ লক্ষ্য করেন তাহলে দেখবেন মোটামুটি সব ক্ষেত্রেই তাদের পণ্যের গায়ে তাদের লোগো আছে, লোগো না হলেও কিছু না কিছু ব্রান্ডিং তো আছেই। এর কারণ? ফ্রি মার্কেটিং! চিন্তা করুন, প্রতিদিন কত মানুষের সাথে আপনার দেখা হয়? কতজন আপনার দিকে তাকায়? চিন্তা করুন যদি সবাই আপনার দিকে তাকালে আপনার ব্রান্ডকে দেখতে পায়, আপনার ব্রান্ডের পণ্যের নাম জানতে পারে তাহলে প্রতিদিন আপনি কতজনকে আপনার ব্রান্ড সম্পর্কে জানাতে পারছেন? এবার এটাকে গুন দিন আপনার প্রতিষ্ঠানের সব মানুষ দিয়ে। দিনে কতজন দেখছে, মাসে কতজন, ছয় মাস, বছরে? এটি আপনার কোম্পানি ব্র্যান্ড সচেতনতা, ব্রান্ড ইমেজ তৈরি, কনভারসন রেট বাড়ানো ইত্যাদি ক্ষেত্রে অনেক বেশি ভূমিকা রাখে।
বড় ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেখবেন বছরের এক বা একাধিক সময় প্রচুর টি-শার্ট বানাতে যেগুলো তারা ফ্রি তে বিলি করে বিভিন্ন ইভেন্টে, রোড-শোতে। কারণ একটাই, ফ্রি জিনিস সবাই পছন্দ করে এবং এদের মাঝে প্রায় সবাই এই টি-শার্ট গুলো অনেক দিন ধরে পরবে। এতে একটা লম্বা সময় ধরে মার্কেটিং-এ কিছু খরচ না করেও সবার চোখের সামনে থাকা যায়। রিসার্চে দেখা গেছে টি-শার্ট Adword মার্কেটিং এর চেয়েও বেশি সাশ্রয়ী।

বিশ্বস্ততা

মার্কেটিং এর প্রধান লক্ষ্য শুধুমাত্র আপনার ব্র্যান্ড বা পণ্য আপনার টার্গেট কাস্টোমারকে যে জানানো তা নয়, বরং আপনার টার্গেট কাস্টোমারকে আপনার পণ্য নিয়ে কথা বলানো। ডিজিটাল মার্কেটিং-এ আপনি কত বেশি টাকা খরচ করবেন? যতই করুন আপনার নির্দিষ্ট বাজেটের খুব বেশি কখনই যেতে পারবেন না। ডিজিটাল মার্কেটিং কিছুদিনের জন্য বন্ধ করলে দেখবেন হুট করে একটা নিস্তব্ধতা। কেউ আর নতুন করে আপনার পণ্য বা ব্র্যান্ড নিয়ে জানছে না। এতদিনে আপনি আপনার টার্গেট কাস্টোমারের কাছে যতটুকু বিশ্বস্ততা পেয়েছেন ততটুকুই আপনার সম্বল। এজন্য ডিজিটাল মার্কেটিং এর পাশাপাশি আপনার উচিত যত বেশি পারা যায় আপনার টার্গেট কাস্টমারকে আপনার ব্র্যান্ড আম্ব্যাসাডর বানানো। যেন তারা আপনার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে, আপনার পণ্য নিয়ে তাদের ভালোলাগাটুকু তাদের পরিচিত মানুষের সাথে শেয়ার করে। টি-শার্ট খুবই সস্তা একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে আপনি আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাস্টমারকে খুব সহজেই খুশি করতে পারবেন। আপনার ভালবাসাটুকুকে তারা privilage মনে করবে এবং আপনার ব্র্যান্ড বা পণ্য কে তারা লম্বা সময় ধরে মনে রাখবে।

এর সাকসেস স্টোরি হচ্ছে Twitch, একটি অনলাইন ভিডিও স্টিমিং প্লাটফর্ম, তারা শুধুমাত্র ২০০০ টি-শার্ট বানিয়েছিল যেগুলো তারা দিয়েছিল তাদের কিছু বিশ্বস্ত কাস্টোমার এবং অনলাইন বা অফলাইন জগতের কিছু ভিআইপি মানুষজন কে। তারা এটাকে খুব ভালো ভাবে নেয় এবং প্রায় সবাই সোশ্যাল প্লাটফর্মে তাদের নিয়ে কিছু না কিছু লিখে। এটা Twitch কে রাতারাতি একটা ব্র্যান্ড তকমা দিয়ে দেয় এবং তাদের কনভারসন রেট বেড়ে যায় অনেকগুণ। তারা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু মানুষ কে পেয়ে যায় যারা তাদের ব্র্যান্ডকে একটা লম্বা সময় ধরে সাপোর্ট করবে। এটি এমন এক অর্জন যা আপনি টাকা দিয়ে কখনই কিনতে পারবেন না।

টিম-স্পিরিট

সহকর্মীদের মধ্যে অন্তরঙ্গতা ও পরম্পরের প্রতি আস্থা টিম-স্পিরিটের মুলমন্ত্র। দলের সবার একই পোশাক, যেখানে আপনার টিম বা প্রতিষ্ঠান নিয়ে অনুপ্রেরণা মূলক কিছু লেখা আছে, দেখা গেছে তা সবার মাঝে দূরত্ব কমিয়ে আনতে এবং সবার চিন্তা ভাবনা কে একই ধারায় প্রবাহিত করতে অনেক সাহায্য করে। সব চেয়ে বেস্ট পারফর্মিং টিম তারাই যাদের মাঝে দূরত্ব সবচেয়ে কম, যারা একে অপরকে বিশ্বাস করে এবং দলীয়ভাবে মুল লক্ষ্যের দিয়ে এগিয়ে যায়। দলীয় স্লোগান এবং অনুপ্রেরনামুল্ক লেখা সম্বলিত একটি টি-শার্ট এক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
আপনি চাইলে আপনার কাস্টমারদের জন্যও একই টি-শার্ট বানাতে পারেন, স্লোগানটাকে একটু পালটে দিয়ে, এতে করে তারাও নিজেদেরকে আপনার টিমের অংশ মনে করবে।

 

একারণে টিম বা প্রতিষ্ঠানমূলক টি-শার্ট এখন সারা পৃথিবীতেই খুব জনপ্রিয় হচ্ছে। যদি আপনিও আপনার ব্র্যান্ড, টিম কিম্বা প্রতিষ্ঠানমূলক টি-শার্ট বানানোর কথা চিন্তা করেন তাহলে আপনি যোগাযোগ করতে পারেন আমাদের সাথে। Fabrilife বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় টি-শার্ট ব্র্যান্ড এবং আপনার আস্থার প্রতিদানে আমরা সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।