মিউজিক এবং ফ্যাশন – কালের বিবর্তন

মিউজিক এবং ফ্যাশন , আপাতদৃষ্টিতে দুইটি ভিন্ন ধারার বাণিজ্যিক মাধ্যম হলেও সামাজিক এবং ভোক্তা দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় যুগ যুগ ধরে একটি সম্পূরক সহবস্থান বজায় রেখে চলেছে। বিগত দশকগুলোতে আঞ্চলিক অথবা বৈশ্বিক পটভূমি পর্যালোচনা করলে সেটা খুব ভালোভাবেই অনুধাবন করা যায় ।

সঙ্গীত বা সঙ্গীত তারকারা কিভাবে আমাদের দৈনন্দিন ফ্যাশনকে প্রভাবিত করতে শুরু করলো, সেটা বুঝতে খুব বেশি পেছনে যেতে হবেনা । বাংলাদেশ এর প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে সেটা কয়েক দশক মাত্র । বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবেই সঙ্গীতে সমৃদ্ধ ; এবং ভারতীয় উপমহাদেশের সুবিশাল সঙ্গীত-সম্ভারে বাংলাদেশের অবদান অনস্বীকার্য । কিন্তু সত্যিকার অর্থে ফ্যাশন কে প্রভাবিত করার পেছনে যে ধাঁচের সঙ্গীত সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে সেটা হচ্ছে ব্যান্ড মিউজিক । আমাদের দেশের ব্যান্ড মিউজিকের উত্থান ষাট এর দশকের শেষ থেকে এবং মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়কালে । শ্রদ্ধেয় প্রয়াত আজম খান এর হাত ধরে যে পথচলার সূচনা করছিলো এই দেশের ব্যান্ড শিল্প , কালের পরিক্রমায় তা পরিণত হয়েছে এল আর বি , উইনিং , সোলস , ওয়ারফেজ, আর্ক এবং উৎকর্ষ লাভ করেছে অর্থহীন , আর্টসেল, ব্ল্যাক, নেমেসিস দিয়ে । শুরুতে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর জনগণের কাছ থেকে সাড়া পেলেও খুব শীঘ্রই আপামর জনসাধারণ এর সঙ্গীত-বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায় এই ব্যান্ড মিউজিক এবং ধীরে ধীরে তা মানুষের জীবনাচরণে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। এবং সম্পূর্ণটাই প্রতিফলিত হয় দৈনন্দিন ফ্যাশন এর ভেতর দিয়ে। আশির দশকের বাংলাদেশ এ তরুণদের ফ্যাশন ক্রেজের একটি প্রধাণ অনুষঙ্গই ছিল ডেনিম জ্যাকেট এবং হেডব্যাণ্ড । সাথে যোগ হল সানগ্লাস এবং ছেঁড়া জিনস । নগরবাউল এর জেমস হঠাৎ করেই নিয়ে এলেন জিন্স আর পাঞ্জাবী। তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া এই কম্বিনেশনটি এখনও তরুণদের পছন্দের শীর্ষে ।

নব্বই এর দশকের শেষ থেকে এই দেশে ধীরে ধীরে পাশ্চাত্য সঙ্গীতের অনুপ্রবেশ ঘটতে লাগল মাইকেল জ্যাকসনের হাত ধরে এবং তার মিউজিকের সাথে সাথে হ্যাট টাও তুমুল জনপ্রিয় হয়ে গেলো এই দেশের তরুণদের মাঝে । নতুন সহস্রাব্দে একি সাথে রক এবং র‍্যাপ মিউজিক এদেশের এন্টারটেইনমেন্ট এর স্পেকট্রাম টাই চেঞ্জ করে দিলো। মেটালিকা , আয়রন মেইডেন , স্করপিওন, সিস্টেম অফ এ ডন রক মিউজিক এবং লিঙ্কিন পার্ক , লিম্প বিজকিট র‍্যাপ মিউজিক দিয়ে সঙ্গীতপ্রেমি প্রজন্মের মাঝে সূচনা করে দিলো এক ভিন্নধর্মী উন্মাদনার । এবং যথারীতি এর বহিঃপ্রকাশ ঘটতে লাগলো তাদের ফ্যাশন ভাবনায় । মেটাল ব্রেসলেট, ইয়ার রিং এর সাথে মাইক শিনোডার বেসবল ক্যাপ হয়ে চলে এলো তরুণদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে ।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে যে ফ্যাশন অনুষঙ্গে আমূল পরিবর্তন এলো তা হচ্ছে টি শার্ট । বাংলাদেশ তথা সমগ্র বিশ্বেই টি শার্টই ব্যাক্তিত্ত বহিঃপ্রকাশের জন্য সবচেয়ে পছন্দের ফ্যাশন আইটেম । রক এবং র‍্যাপ এর নেশায় বুঁদ মিউজিক ফ্রিক তরুণরা নিজ পছন্দের ব্যান্ড এর লোগো এবং লিরিক্স লেখা টিশার্ট গায়ে দেয়াটাকে ক্রেজ এ রূপান্তর করে ফেলল । তারও পরবর্তীতে, যখন রকের উন্মাদনা পেরিয়ে আবির্ভাব হল হেভি এবং ডেথ মেটালের , Genre এর সাথে মিল রেখে টি শার্ট সিলেকশন এর সময় তাদের পছন্দের রঙ হয়ে গেলো কালো। পাড়া মহল্লায় গজিয়ে উঠতে থাকলে অসংখ্য মিউজিক ব্যান্ড এবং কাঁধে শোভা পেতে শুরু করলো গিটার সহ নানান instrument এর ব্যাগ ।

পশ্চিমা মিউজিক ব্যান্ডরা এই সুযোগে তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড এর ফ্যাশন আইটেম এর Merchandising শুরু করলো সারা বিশ্বজুড়ে । রক ব্যান্ডই শুধু নয় , পপ এবং solo আর্টিস্ট রাও অংশ নিলো এই Global এর সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে নিজ নিজ ব্র্যান্ড এর বাণিজ্যিকীকণে । কালের পরিক্রমায় , মিউজিক এবং ফ্যাশন একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেলো এবং দুই এ মিলে তৈরি করে ফেলল শুধু বিলিয়ন নয় , বরং ট্রিলিয়ন ডলার এর মার্কেট ।

তো , মিউজিক রিলেটেড টি- শার্ট খুঁজছেন ? ফ্যাব্রিলাইফের মিউজিক ক্যাটাগরি হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় , সমৃদ্ধ এবং একি সাথে সবচেয়ে আকর্ষণীয় একটি কালেকশন। কমপক্ষে ৩০০০ এরও বেশি ডিজাইন এখানে আছে , এবং প্রতিনিয়তই এই কালেকশনটি আরও বেশি করে সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশী বিদেশি জানা অজানা অসংখ্য ব্যান্ড এবং মিউজিশিয়ানদের লোগো , artwork এবং গানের লিরিক্স মেশানো ডিজাইনে ।

 

আজই ঘুরে আসুন এই লিঙ্ক এ এবং বেছে নিন আপনার পছন্দের টি -শার্ট গুলো :

https://fabrilife.com/category/music